রুকইয়াহ কেন করা হয়?

রুকইয়াহ করা হয় মূলত আল্লাহর কাছে শিফা, সুরক্ষা ও সাহায্য চাওয়ার জন্য। কুরআন ও সহিহ হাদিসে রুকইয়াহর অনুমোদন রয়েছে।

বিশেষ করে জিনের কষ্ট, জাদু, বদনজরসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে—রুকইয়াহ নিজে কোনো স্বাধীন শক্তি নয়। শিফা দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।

আল্লাহ বলেন,

“আমি কুরআন নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।”
— সূরা আল-ইসরা: ৮২

জিন ও জাদুর ক্ষেত্রে রুকইয়াহ

কুরআনে জাদুর অস্তিত্বের কথা এসেছে। সূরা আল-বাকারাহ ১০২ নম্বর আয়াতে এমন জাদুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হতো।

আল্লাহ বলেন,

“…তারা এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে স্বামী ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত…”
— সূরা আল-বাকারাহ: ১০২

তাই জাদুর ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং কুরআন ও মাসনূন দোয়ার মাধ্যমে রুকইয়াহ করা বৈধ।

বিবাহে সমস্যা হলে রুকইয়াহ

কখনো কোনো ব্যক্তির বিবাহের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রস্তাব আসছে না, বারবার কোনো কারণ ছাড়াই সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে, অথবা বিবাহের বিষয়ে অস্বাভাবিক ভয় ও কষ্ট অনুভূত হচ্ছে—এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেউ যদি জাদু বা বদনজরের আশঙ্কা করে, তাহলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিয়ে শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ করতে পারে।

তবে বিবাহ দেরি হওয়া বা কোনো প্রস্তাব ভেঙে যাওয়া মানেই জাদু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এর পেছনে পারিবারিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত বা অন্যান্য স্বাভাবিক কারণও থাকতে পারে।

তাই রুকইয়াহ করার পাশাপাশি বাস্তব কারণগুলোও খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে রুকইয়াহ

কুরআনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর উদ্দেশ্যে জাদুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে কোনো দম্পতি যদি জাদুর আশঙ্কা করে, তাহলে তারা আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিতে পারে, কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে এবং শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ করতে পারে।

তবে দাম্পত্য জীবনে ঝামেলা হলেই একে জাদু বা জিনের প্রভাব বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি, যোগাযোগের সমস্যা, রাগ, পারিবারিক চাপ, আর্থিক সমস্যা কিংবা অন্যান্য বাস্তব কারণেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

তাই রুকইয়াহর পাশাপাশি সমস্যার বাস্তব কারণ সমাধানের চেষ্টা করাও জরুরি।

বদনজরের জন্য রুকইয়াহ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বদনজরের ক্ষেত্রে রুকইয়াহ করার অনুমতি দিয়েছেন। সহিহ বুখারিতে বদনজরের ক্ষেত্রে রুকইয়াহ করার নির্দেশের কথা এসেছে।

অতএব বদনজরের আশঙ্কা হলে কুরআন ও রাসূল ﷺ-এর শেখানো দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা ও শিফা চাওয়া যায়।

রুকইয়াহ মানে শুধু জিন-জাদু নয়

অনেকেই মনে করেন রুকইয়াহ মানেই জিন বা জাদুর চিকিৎসা। বিষয়টি এমন নয়।

রুকইয়াহ হলো কুরআন ও বৈধ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। অসুস্থতা, বদনজর, জাদু কিংবা বিভিন্ন কষ্টের সময় আল্লাহর কাছে শিফা চাওয়ার জন্য রুকইয়াহ করা যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রুকইয়াহ করতে গিয়ে মানুষের মধ্যে অযথা ভয় সৃষ্টি করা যাবে না এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে জিন, জাদু বা বদনজরে আক্রান্ত বলা যাবে না।

রুকইয়াহর মূল বিশ্বাস

রুকইয়াহ করার সময় একজন মুসলিমের বিশ্বাস থাকবে—

জিন নয়, শিফা দেন আল্লাহ।
জাদু নয়, শিফা দেন আল্লাহ।
কোনো রাকী নয়, শিফা দেন আল্লাহ।
কুরআন ও দোয়া হলো আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার মাধ্যম।

তাই জিন, জাদু, বদনজর বা অন্য কোনো সমস্যার আশঙ্কা হলে ভয় না পেয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, মাসনূন দোয়া-যিকির এবং শরিয়তসম্মত রুকইয়াহর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

প্রয়োজনে শারীরিক বা মানসিক সমস্যার জন্য যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে হবে।

কারণ রোগ যাই হোক, সমস্যা যাই হোক—মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় একমাত্র আল্লাহ।